নিজস্ব প্রতিবেদক, রপবাণী ২ অগাস্ট ২০২৬ , ২:২৩ পিএম প্রিন্ট সংস্করণ
ঢাকা: বিতর্কিতদের ঠাঁই না দেওয়ার রূপরেখা থাকলেও দেশের ক্রীড়া প্রশাসনে আবারও মাথাচাড়া দিয়ে উঠেছে পুরনো বিতর্ক। পতিত ফ্যাসিস্ট সরকারের ঘনিষ্ঠ ও অন্যতম অর্থদাতা হিসেবে আলোচিত এক ব্যক্তিকে বাংলাদেশ সাইক্লিং ফেডারেশনের নতুন অ্যাডহক কমিটির সহ-সভাপতি পদ দেওয়ার অভিযোগে ক্রীড়াঙ্গনে তীব্র ক্ষোভ ও সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।
সম্প্রতি জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ (এনএসসি) কর্তৃক সাইক্লিং ফেডারেশনের নতুন অ্যাডহক কমিটি ঘোষণার পর থেকেই বিষয়টি নিয়ে বিভিন্ন মহলে সমালোচনা শুরু হয়।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া বিভিন্ন পোস্ট ও ক্রীড়া সংগঠকদের তথ্য অনুযায়ী, নতুন কমিটিতে সহ-সভাপতি হিসেবে জায়গা পাওয়া ওই ব্যক্তি বিদায়ী স্বৈরাচারী সরকারের সময় ক্ষমতাসীন গোষ্ঠীর অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ ছিলেন এবং তাঁদের বিভিন্ন কর্মকাণ্ডে অর্থ জুগিয়েছেন।
অভিযোগ উঠেছে, জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ অ্যাডহক কমিটি গঠনের ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় ব্যাকগ্রাউন্ড চেক বা অতীত কর্মকাণ্ড যাচাই করেনি। বিতর্কিত এই নিয়োগের পর থেকেই প্রশ্ন তুলছেন অভিজ্ঞ ক্রীড়া সংগঠক, সচেতন নাগরিক ও বিভিন্ন ক্রীড়া ক্লাবের প্রতিনিধিরা।
ক্ষোভ প্রকাশ করে এক ক্রীড়া সংগঠক জানান, “ফ্যাসিবাদ ও তাঁদের সহযোগীদের ক্রীড়াঙ্গন থেকে দূরে রেখে স্বচ্ছতা ফিরিয়ে আনার কথা ছিল। কিন্তু যদি ঘুরেফিরে সেই ঘনিষ্ঠ অর্থদাতাদেরই ফেডারেশনের শীর্ষ পদে বসানো হয়, তবে পরিবর্তনের যে অঙ্গীকার তা প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে পড়ে।”
ক্রীড়ামোদী ও সচেতন মহলের দাবি—
যাচাই-বাছাইয়ের অভাব: নিয়োগের আগে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির আর্থিক স্বচ্ছতা, নৈতিক গ্রহণযোগ্যতা ও রাজনৈতিক ব্যাকগ্রাউন্ড যথাযথভাবে পরীক্ষা করা হয়নি।
স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি: ক্রীড়া প্রশাসনে সুশাসন নিশ্চিত করতে জাতীয় ক্রীড়া পরিষদকে (এনএসসি) অবিলম্বে এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক স্পষ্টীকরণ দিতে হবে।
তদন্ত ও ব্যবস্থা: অভিযোগের সতত্যা যাচাই করে প্রয়োজনে উক্ত বিতর্কিত নিয়োগ বাতিল করে নতুন কাউকে স্থলাভিষিক্ত করতে হবে।
ক্রীড়া অঙ্গনের শীর্ষ ব্যক্তিবর্গের মতে, দেশের খেলাধুলাকে রাজনীতি ও বিতর্ক মুক্ত রাখতে জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের ভূমিকা আরও দায়িত্বশীল ও স্বচ্ছ হওয়া প্রয়োজন। এ বিষয়ে জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের প্রতিক্রিয়া জানতে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাৎক্ষণিকভাবে কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।











