রুপবাণী ডেস্ক ১১ অগাস্ট ২০২৬ , ১:১৬ পিএম প্রিন্ট সংস্করণ
রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে সংসদ সদস্যরা নিজ দলের বাইরের প্রার্থীকে ভোট দিতে পারবেন না বলে জানিয়েছেন জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম।

তিনি বলেছেন, সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদ কার্যকর আছে। ফলে কেউ দলের সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে ভোট দিলে তার সংসদ সদস্য পদ বাতিল হবে।
২০ আগস্ট দেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ভোট গ্রহণের দিন নির্ধারিত আছে। সংবিধান অনুসারে, সংসদ সদস্যদের ভোটে রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হবেন।
সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদে বলা আছে, কেউ একটি দলের প্রার্থী হিসেবে নির্বাচিত হয়ে, সেই দল ছেড়ে দিলে তার সংসদীয় আসন চলে যাবে। এ ছাড়া সংসদে নিজের দলের বিরুদ্ধে ভোট দিলে তার আসন শূন্য হবে। তবে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ৭০ অনুচ্ছেদ প্রয়োগ হওয়া না হওয়া নিয়ে নানা মত আছে। এরই পরিপ্রেক্ষিতে বিষয়টি সামনে আনেন সাংবাদিকেরা।
রাষ্ট্রপতি নির্বাচন সম্পর্কে চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম আরও বলেন, ২০ আগস্ট সংসদকক্ষে বেলা ২টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ভোট গ্রহণ করা হবে। সংসদ সদস্যরা তাদের বিভক্তিসংখ্যা অনুযায়ী ভোট দেবেন। রাষ্ট্রপতি, সংসদ নেতা, বিরোধীদলীয় নেতা এবং ভারপ্রাপ্ত স্পিকার যখন ভোট দেবেন, তখন সেটি টেলিভিশনে সরাসরি সম্প্রচার করা হবে। ভোট গণনা থেকে শুরু করে ফলাফল হওয়া পর্যন্ত সরাসরি সম্প্রচার চলবে।
বিএনপির প্রার্থী কবে চূড়ান্ত হবে, এমন প্রশ্নের জবাবে চিফ হুইপ বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী ঘোষণা করলে আমরা সবাই জানতে পারব। মনোনয়ন ফরম দাখিলের সময়ই আমরা সবাই জানব।’
ভোটের দিন সংসদ কক্ষে বৈঠক ডাকবেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার। এই বৈঠকে যার যার আসনে সংসদ সদস্যরা বসবেন। নির্বাচনী কর্তা হিসেবে প্রধান নির্বাচন কমিশনারই বৈঠকে সভাপতিত্ব করবেন।
সংবাদ সম্মেলনে বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম জানান, ‘জুলাই সনদ’ অনুযায়ী রাষ্ট্রপতি নির্বাচনটা হওয়া উচিত ছিল। যেহেতু গণভোটের রায়ও সংস্কারের পক্ষে এসেছে, তাই ৭০ অনুচ্ছেদ সংস্কার করে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন করা যেত। তাহলে নির্বাচিত রাষ্ট্রপতি আরও বেশি সম্মানিত ও গ্রহণযোগ্য হতেন। তারপরও যেহেতু নির্বাচন হচ্ছে, তারা এটাকে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় হতে দিতে চান না। সে জন্য অলি আহমদকে তারা প্রার্থী ঘোষণা করেছেন।
এ ছাড়া জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের সচিব মো. গোলাম সরওয়ার ভুঁইয়া, নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের জ্যেষ্ঠ সচিব আখতার আহমেদও উপস্থিত ছিলেন বৈঠকে।
সংসদ সচিবালয়ের পক্ষ থেকে এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, সভায় রাষ্ট্রপতি নির্বাচন অনুষ্ঠানের লক্ষ্যে জাতীয় সংসদের অধিবেশন কক্ষ ব্যবহার, যাবতীয় দরকারি সহায়তা এবং সংসদ সদস্যদের উপস্থিতি নিশ্চিতকরণে সভায় আলোচনা হয়েছে।
বৈঠকে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন, ২০২৬ উপলক্ষে যাবতীয় লজিস্টিক সাপোর্ট এবং প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি সম্পন্ন করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
উল্লেখ্য, রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে নির্বাচনী কর্তার দায়িত্ব পালন করেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি)। ভোট গ্রহণ কার্যক্রম পরিচালিত হয় সিইসির তত্ত্বাবধানে। স্পিকার, প্রধানমন্ত্রীসহ অন্য সংসদ সদস্যরা ভোটার হিসেবে বিবেচিত হন।











