রুপবাণী ডেস্ক ৩০ জুলাই ২০২৬ , ১২:৪৪ পিএম প্রিন্ট সংস্করণ
২০২৬ বিশ্বকাপের হেক্সা মিশন ব্যর্থ হয়ে শেষ ষোলো থেকেই বিদায় নিতে হয়েছে পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ব্রাজিলকে। সেই হতাশা পেছনে ফেলে এখন নতুন দল গঠনের পরিকল্পনায় মনোযোগ দিয়েছেন সেলেসাও কোচ কার্লো আনচেলত্তি। বিশ্বকাপ পরবর্তী পুনর্গঠনের অংশ হিসেবে নেইমার, কাসেমিরো ও দানিলোকে আর জাতীয় দলের পরিকল্পনায় রাখবেন না বলে ইঙ্গিত দিয়েছেন তিনি।

নরওয়ের বিপক্ষে হারের ২৪ দিন পর ব্রাজিলিয়ান সংবাদমাধ্যম গ্লোবোএসপোর্তেকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে আনচেলত্তি নিজের প্রথম বছরের মূল্যায়ন করেন। একই সঙ্গে বিশ্বকাপে কৌশলগত কিছু ভুলের কথাও স্বীকার করেন এই ইতালিয়ান কোচ।
আনচেলত্তি বলেন, ‘এই বিশ্বকাপের মাধ্যমে ব্রাজিলের একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রজন্মের সমাপ্তি ঘটেছে। নেইমার, দানিলো, কাসেমিরো—বিশ্বকাপে ৩০ বছরের বেশি বয়সি যেসব খেলোয়াড় ছিলেন, তাদের সময় শেষ হয়েছে।’
নেইমার ইতোমধ্যে আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে অবসরের ঘোষণা দিয়েছেন। অন্যদিকে ৩৫ বছর বয়সি দানিলো ও ৩৪ বছর বয়সি কাসেমিরো এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে অবসর না নিলেও তাদের ভবিষ্যৎ যে জাতীয় দলে নেই, তা আনচেলত্তির বক্তব্যেই স্পষ্ট।
ব্রাজিল কোচের মতে, দলের পরবর্তী বড় লক্ষ্য হবে ২০২৮ কোপা আমেরিকা। তিনি বলেন, ‘আমরা এমন একটি প্রতিযোগিতামূলক দল গড়ে তুলতে চাই, যারা ২০২৮ কোপা আমেরিকায় শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে পারবে। এখনই ২০৩০ বিশ্বকাপ নিয়ে ভাবছি না, আমাদের প্রথম লক্ষ্য কোপা আমেরিকা।’
তবে পুরো দল একসঙ্গে বদলে ফেলার পক্ষপাতী নন আনচেলত্তি। তার ভাষায়, ‘সব ২৬ জন খেলোয়াড়কে পরিবর্তন করা হবে না। কিছু অভিজ্ঞ ফুটবলার থাকবে, যারা নতুনদের পথ দেখাবে। মারকিনিওসের মতো খেলোয়াড়দের উপস্থিতি ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে গুরুত্বপূর্ণ। তবে মূল লক্ষ্য নতুন প্রজন্মকে গড়ে তোলা।’
বিশ্বকাপের পর সেপ্টেম্বর-অক্টোবর ফিফা উইন্ডোতে তিনটি ম্যাচ খেলবে ব্রাজিল। ২৫ ও ২৯ সেপ্টেম্বর অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে টাউন্সভিল ও ব্রিসবেনে দুটি ম্যাচ খেলবে সেলেসাওরা। বিভিন্ন গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, ৩ অক্টোবর ভারতে আরও একটি প্রীতি ম্যাচ খেলতে পারে দলটি।
এই ম্যাচগুলোকে নতুন খেলোয়াড়দের মূল্যায়নের সুযোগ হিসেবে দেখছেন আনচেলত্তি। তিনি বলেন, ‘যেসব খেলোয়াড় সম্পর্কে আমাদের ধারণা কম, তাদের পর্যবেক্ষণের জন্য এই প্রীতি ম্যাচগুলো গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।’
বিশ্বকাপে নরওয়ের বিপক্ষে হারের কারণ নিয়েও আত্মসমালোচনা করেছেন ব্রাজিল কোচ। তিনি বলেন, ‘হাইড্রেশন বিরতির পর আমি দলের কাঠামো পরিবর্তন করেছিলাম। সেখান থেকেই আমরা ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলি। পরে নেইমারকে নামিয়ে বলের দখল ও আক্রমণের মান বাড়ানোর চেষ্টা করেছিলাম, কিন্তু সেটি কাজে আসেনি।’
ব্রাজিলের খেলার ধরন নিয়েও নিজের দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরেছেন আনচেলত্তি। তার মতে, বর্তমান স্কোয়াডের বৈশিষ্ট্য বিবেচনায় দলটির আরও দ্রুতগতির ও সরাসরি আক্রমণভিত্তিক ফুটবল খেলা উচিত।
তিনি বলেন, ‘যখন আক্রমণভাগে ভিনিসিয়ুস জুনিয়র, এনড্রিক, এস্তেভাও ও রাফিনিয়ার মতো খেলোয়াড় থাকে, তখন বলের দখল ধরে রাখার ফুটবলের চেয়ে দ্রুত আক্রমণভিত্তিক ফুটবলই বেশি কার্যকর।’
এছাড়া গোলকিপার পজিশনেও নতুন মুখ খোঁজার পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন আনচেলত্তি। আলিসন ও এডারসনের অভিজ্ঞতা ও সামর্থ্যের প্রশংসা করলেও তিনি মনে করেন, ভবিষ্যতের কথা মাথায় রেখে তরুণ গোলরক্ষকদের মূল্যায়ন করা প্রয়োজন।
আনচেলত্তি বলেন, ‘ব্রাজিলিয়ান লিগে বেশ কয়েকজন প্রতিভাবান তরুণ গোলকিপার খেলছে। তাদেরকে সতর্কতার সঙ্গে পর্যবেক্ষণ ও মূল্যায়ন করাই আমাদের পরিকল্পনা।’











