অপরাধ

অনিয়মের নানা প্রশ্ন: মোটরসাইকেলের মালিকানা হস্তান্তরে ঘুষ ও জালিয়াতির মারাত্মক অভিযোগ

  রুপবাণী ডেস্ক ২ অগাস্ট ২০২৬ , ২:০৪ পিএম প্রিন্ট সংস্করণ

বিশেষ প্রতিবেদক, ঢাকা:

ঢাকা মেট্রো-ল-১২-৭৪১০ নম্বরের একটি মোটরসাইকেলের মালিকানা পরিবর্তনকে কেন্দ্র করে বড় ধরনের অনিয়ম, দুর্নীতি ও স্বাক্ষর জালিয়াতির অভিযোগ উঠেছে। প্রকৃত মালিকের উপস্থিতি, সম্মতি ও স্বাক্ষর ছাড়াই হস্তান্তর প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার পাশাপাশি এই ঘটনায় প্রায় পাঁচ লাখ টাকা ঘুষ লেনদেনের চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে এসেছে।

সরকারি ই-চালান রেকর্ডের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে মোটরযানের নতুন মালিক হিসেবে ‘PLASTIC CONCERN (PVT.) LTD.’ নামের একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের নাম দেখা যাচ্ছে। অভিযোগকারীর দাবি, বৈধ মালিকের অজান্তে কীভাবে সরকারি ডাটাবেজে এই হস্তান্তর কার্যকর হলো, তা নিয়ে বড় ধরনের প্রশ্ন সৃষ্টি হয়েছে। একই সঙ্গে এই প্রক্রিয়ায় ‘Rancon Motors Limited’-এর নামও উঠে এসেছে। তবে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর বক্তব্য বা অভিযোগের নিরপেক্ষ সত্যতা এখনো যাচাই করা সম্ভব হয়নি।

ঘটনাটিতে নতুন মাত্রা যোগ করেছে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (BRTA)-এর সফটওয়্যার রেকর্ড। জানা গেছে, মালিকানা পরিবর্তনের পর উক্ত মোটরযানের সরকারি রেকর্ডে একটি ‘Objection Note’ (আপত্তি নোট) যুক্ত করা হয়েছিল। এতে করে বেশ কিছু জটিল প্রশ্ন দেখা দিয়েছে:

  • প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ আইনসম্মত হলে পরবর্তীতে Objection Note যুক্ত করার প্রয়োজন হলো কেন?

  • কার নির্দেশে এবং কী উদ্দেশ্যে এই আপত্তি যুক্ত করা হয়েছিল?

  • আপত্তি থাকা সত্ত্বেও সরকারি ডাটাবেজে এই অবৈধ পরিবর্তন বহাল থাকল কীভাবে?

অভিযোগকারী জানান, বিষয়টি নিয়ে বিআরটিএ-এর সংশ্লিষ্ট দপ্তরে একাধিকবার যোগাযোগ করা হলেও হস্তান্তর সংক্রান্ত আবেদনপত্র, স্বাক্ষর যাচাই নথি বা সফটওয়্যার লগের কোনো স্পষ্ট ব্যাখ্যা মেলেনি।

আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রকৃত মালিককে না জানিয়ে নথিপত্র জালিয়াতি বা দুর্নীতির মাধ্যমে মালিকানা বদল হলে তা স্পষ্টতই ফৌজদারি অপরাধের আওতায় পড়ে। অভিযোগ প্রমাণিত হলে প্রশাসনিক শাস্তির পাশাপাশি জড়িতদের বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা দায়ের হতে পারে।

এদিকে, নিরপেক্ষ ও স্বাধীন তদন্তের দাবি জানিয়ে বিআরটিএ চেয়ারম্যান, পরিচালক (ঢাকা বিভাগ) এবং সংশ্লিষ্ট তদন্তকারী সংস্থার দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন ভুক্তভোগী। ব্যবহৃত নথিপত্র, দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের ভূমিকা এবং সফটওয়্যার লগ খতিয়ে দেখে দোষীদের বিরুদ্ধে প্রচলিত আইনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন তিনি।

বিআরটিএ এবং অভিযুক্ত প্রতিষ্ঠানগুলোর বক্তব্য পাওয়া গেলে তা পরবর্তী সংবাদে প্রকাশ করা হবে।