রুপবাণী ডেস্ক ৯ অগাস্ট ২০২৬ , ১:১২ পিএম প্রিন্ট সংস্করণ
একসময় নিয়মিতই টেলিভিশনের পর্দায় দেখা যেত অভিনেতা হাসান মাসুদকে। নাটক-সিনেমায় তার অভিনয় দর্শকদের ভূয়সী প্রশংসা কুড়িয়েছেন। অভিনয় থেকে অনেকটাই নিজেকে গুটিয়ে নিয়েছেন ‘ব্যাচেলর’খ্যাত এই অভিনেতা। সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে অভিনয় থেকে দূরে থাকার কারণ এবং বর্তমান জীবনযাপন নিয়ে কথা বলেছেন এই অভিনেতা।

হাসান মাসুদের ভাষ্য, “জীবনে একটি বড় পরিবর্তন আসার পর থেকেই নিজেকে অনেকটা গুটিয়ে নিয়েছি। একই সঙ্গে আমার জীবনে গুরুত্ব পেয়েছে ধর্মীয় ভাবনা।”
ভাববাদী বা ধার্মিক হয়ে যাওয়ার কথা জানিয়ে হাসান মাসুদ বলেন, “আমি নিজেকে আসলে একটু গুটিয়ে নিয়েছি। এখন আর অভিনয় করি না। আমার জীবনে একটা পরিবর্তন এসেছে। সেই কারণেই এখন শুধু বিজ্ঞাপনের কাজ পেলে করি, না হলে করি না। একটু ভাববাদী হয়ে গিয়েছি। মানে ধার্মিক হয়ে গিয়েছি।”
জীবনের এই পরিবর্তনের সঙ্গে তার বই পড়ার অভ্যাসেও এসেছে বড় ধরনের পরিবর্তন। একসময় প্রচুর বই পড়লেও এখন আর বই পড়েন না। কেন বই পড়া থেকে নিজেকে সরিয়ে নিয়েছেন, সেই ব্যাখ্যাও দিয়েছেন এই অভিনেতা।
হাসান মাসুদের কথায়, “আসলে বই পড়ার অধ্যায়টা আমার অনেক আগে শেষ হয়ে গেছে। আমি এত বেশি পড়েছি, এত বেশি পড়েছি যে, শেষের দিকে আমি যন্ত্রের মতো হয়ে গিয়েছিলাম। আমার ভেতরে কোনো ভাবাবেগ কাজ করত না।”
অতিরিক্ত বই পড়ার কারণে একসময় নিজের মধ্যে অনুভূতিহীনতার মতো একটি অবস্থার সৃষ্টি হয়েছিল। উদাহরণ দিয়ে হাসান মাসুদ বলেন, “আমার সামনে যদি একটা ট্রাকে চাপা পড়ে একজন মারা যেত, তখন আমি ভাবতাম—লোকটার ভুলেই তো লোকটা মারা গেছে। এরকম যন্ত্রের মতো হয়ে গিয়েছিলাম। কোনো সেন্টিমেন্ট আমার ভেতরে কাজ করত না।”
এরপর নিজের সংগ্রহে থাকা প্রায় ১ হাজার ২০০ বই বিক্রি করে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন হাসান মাসুদ। এ প্রসঙ্গে হাসান মাসুদ বলেন, “এরপর আমি প্রায় ১২০০ বই নীলক্ষেতে বিক্রি করে দিয়েছি, একেবারে পানির দামে। এরপর থেকে আমি আর বই পড়ি না।”
হাসান মাসুদের কর্মজীবনের শুরু অবশ্য অভিনয় দিয়ে নয়। ১৯৮৫ সালে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীতে ক্যাডেট হিসেবে যোগ দেন তিনি। সাত বছর পর, ১৯৯২ সালে ক্যাপ্টেন পদে অবসর নেন। এরপর যুক্ত হন সাংবাদিকতা পেশায়।
‘দ্য নিউ নেশন’-এ কাজ করার পর ১৯৯৫ সালে ‘দ্য ডেইলি স্টার’-এ ক্রীড়া প্রতিবেদক হিসেবে যোগ দেন হাসান মাসুদ। ২০০৪ থেকে ২০০৮ সাল পর্যন্ত বিবিসি বাংলার সংবাদদাতা হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন তিনি।
সাংবাদিকতা থেকে অভিনয়ে আসেন হাসান মাসুদ। মোস্তফা সরয়ার ফারুকীর ‘ব্যাচেলর’ চলচ্চিত্রের মাধ্যমে ২০০৩ সালে বড়পর্দায় অভিষেক হয় তার। এরপর ‘মেড ইন বাংলাদেশ’সহ বেশ কয়েকটি চলচ্চিত্রে অভিনয় করেন। পাশাপাশি অসংখ্য নাটকে অভিনয় করে দর্শকের কাছে নিজের আলাদা পরিচিতি তৈরি করেন।
‘হাউজফুল’, ‘ট্যাক্সি ড্রাইভার’, ‘এফডিসি’, ‘বউ’, ‘খুনসুটি’, ‘গ্র্যাজুয়েট’, ‘রঙের দুনিয়া’, ‘আমাদের সংসার’, ‘গণি সাহেবের শেষ কিছুদিন’ ও ‘বাতাসের ঘর’সহ বেশ কিছু নাটকে তার অভিনয় দর্শকদের প্রশংসা কুড়িয়েছে।
অভিনয়ের পাশাপাশি সংগীতেও যুক্ত ছিলেন হাসান মাসুদ। ‘ব্যাচেলর’ চলচ্চিত্রের জনপ্রিয় গান ‘আজকে না হয় ভালোবাসো’-তে কণ্ঠ দিয়েছেন তিনি। ২০০৬ সালের ভালোবাসা দিবসে প্রকাশিত হয় তার প্রথম গানের অ্যালবাম ‘হৃদয়ঘটিত’।
দীর্ঘ অভিনয়জীবনের পর এখন অনেকটাই আড়ালে থাকা হাসান মাসুদের জীবনযাপনে এসেছে নতুন এক অধ্যায়। অভিনয়, বইপড়া ও কর্মব্যস্ত জীবনের বাইরে এখন ধর্মীয় ভাবনা ও আত্মঅনুসন্ধানই তার জীবনের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে উঠেছে।