রুপবাণী ডেস্ক ১০ অগাস্ট ২০২৬ , ৪:৪০ এএম প্রিন্ট সংস্করণ
পটুয়াখালীর মৎস্য অবতরণ কেন্দ্র মহিপুর ও আলীপুরে ঘন ঘন লোডশেডিংয়ের কারণে দেখা দিয়েছে তীব্র বরফ সংকট। বিদ্যুৎ না থাকায় চাহিদার তুলনায় উৎপাদন অনেকটা কম হওয়ায় দ্বিগুণ বেড়েছে বরফের দাম। ১৫০ টাকার বরফের ক্যান বিক্রি হচ্ছে ৩০০ টাকায়। তারপরও পাওয়া যাচ্ছে না বরফ। এ কারণে মাছ শিকারে সাগরে যেতে পারছে না শত শত ট্রলার।

সরেজমিনে ঘুরে জানা যায়, মৎস্য বন্দর মহিপুর ও আলীপুরে অন্তত ৩৬ টি বরফকল রয়েছে। বিদ্যুৎ সংকটে কোনো কোনো বরফকল প্রতিদিন মাত্র ২০ থেকে ২৫ ক্যান, আবার কোনোটি সর্বোচ্চ ২০০ ক্যান পর্যন্ত বরফ উৎপাদন করতে পারছে। এসব বরফ কলের উৎপাদন ক্ষমতার মাত্র এক তৃতীয়াংশ বরফ উৎপাদন করতে পারছে। লোকসানে পড়ছেন বরফ কল মালিকরাও।
আলীপুর মৎস্য কেন্দ্রের ঘাটে বাঁধা এফবি নুরজাহান ট্রলারের মালিক মিজান হোসেন বলেন, “সমুদ্রের যাওয়ার প্রধান সামগ্রী হচ্ছে বরফ। আমারা এক সপ্তাহ ধরে বরফ পাচ্ছি না। এখনই কিন্তু ইলিশের ভরা মৌসুম, এসময় আমরা ঘাটে বসে অলস সময় পার করছি।”
আলীপুরের খান ফিসের আড়তের স্বত্ত্বাধিকারী রহিম খান বলেন, “বিদ্যুতের কারণে বরফ সংকট ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। ১৫০ টাকার বরফ কিনতে হচ্ছে ৩০০ টাকায়। তাও চাহিদা তুলনায় পাওয়া যাচ্ছে না। আমরা ট্রাক ভাড়া করে অন্য জেলা যেমন- খুলনা, বাগেরহাট ও বরিশাল থেকে অনেক সময় বরফ আনতে বাধ্য হচ্ছি। তাও আনা নেওয়া করতে সময় নষ্ট হচ্ছে। আমরা মহিপুর ও আলীপুরে নিরবিচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবারহ চাই।”
পটুয়াখালী পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির জিএম আবুল কাশেম বলেন, “জ্বালানি সংকটের কারণে বর্তমানে লোডশেডিং বিদ্যমান রয়েছে। জেলায় মোট বিদ্যুতের চাহিদা বর্তমানে ১৩০ মেগাওয়াট। এর বিপরীতে জাতীয় গ্রিড থেকে সরবরাহ পাওয়া যাচ্ছে মাত্র ৮৫ মেগাওয়াট। ফলে ৪৫ মেগাওয়াট ঘাটতি থাকায় চাহিদার মাত্র ৫২ শতাংশ বিদ্যুৎ সরবরাহ করা সম্ভব হচ্ছে এবং বাকি ৪৮ শতাংশ ঘাটতির কারণে নিয়মিত লোডশেডিং করতে হচ্ছে।”
তিনি বলেন, জ্বালনি সংকট কেটে গেলে পাশাপাশি রক্ষণাবেক্ষণ কাজের জন্য বন্ধ থাকা পাওয়ার প্লান্টগুলো চালু হলে লোডশেডিংয়ের সমস্যা সমাধান হবে।”











