রুপবাণী ডেস্ক ৯ অগাস্ট ২০২৬ , ১:৫৪ পিএম প্রিন্ট সংস্করণ
বাংলাদেশের পরবর্তী রাষ্ট্রপতি হতে যাচ্ছেন বিএনপির মহাসচিব এবং স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। বিএনপির চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান তার মনোনয়ন চূড়ান্ত করার পর এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ১৯৭২ সালে বিসিএস পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে শিক্ষা ক্যাডারে ঢাকা কলেজে অর্থনীতি বিভাগে শিক্ষকতা পেশায় যোগদান করেন। ১৯৮৬ সালে পৌরসভা নির্বাচনকে সামনে রেখে মির্জা ফখরুল তার শিক্ষকতা পেশা থেকে অব্যাহতি নেন এবং সক্রিয়ভাবে রাজনীতিতে প্রবেশ করেন। ১৯৮৮ সালে বিএনপিতে যোগ দেন।
বিএনপির দুর্দিনে দলের ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব হিসেবেও যোগ্যতার স্বাক্ষর রাখেন তিনি। এরই ধারাবাহিকতায় ২০১৬ সালের কাউন্সিলে তাকে মহাসচিব হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। বিগত দিনে আন্দোলন সংগ্রাম ও ক্লিন ইমেজের কারণে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর দলের নেতাদের কাছে গ্রহণযোগ্যতা পেয়েছেন।
এর আগে রবিবার (৯ আগস্ট) সকালে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের জন্য ইসি থেকে দুইটি মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করে ক্ষমতাসীন বিএনপি। ঢাকার আগারগাঁওয়ের নির্বাচন ভবনে প্রধান নির্বাচনি কর্মকর্তার কার্যালয় থেকে মনোনয়ন সংগ্রহ করেন জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম ও বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবীর রিজভী।
১১ দলের রাষ্ট্রপতি প্রার্থী অলি আহমদ
জাতীয় সংসদে প্রধান বিরোধীদল বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোট প্রবীণ রাজনৈতিক কর্নেল (অব.) অলি আহমদকে তাদের রাষ্ট্রপতি পদের প্রার্থী করেছে।
অলি আহমদ লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) চেয়ারম্যান। এলডিপি ১১ দলীয় ঐক্য জোটের শরিফ দল।
রবিবার (৯ আগস্ট) রাজধানীর মিন্টু রোডে বিরোধীদলীয় নেতার সরকারি বাসভবনে ১১ দলীয় ঐক্য জোটের শরিকদের সঙ্গে বৈঠকে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। বৈঠক পরবর্তী সংবাদ বিফ্রিংয়ে এ তথ্য জানান জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও সংসদে বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম।
নাহিদ ইসলাম বলেন, ‘‘১১ দলের বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয়েছে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে আমরা অংশ নেব। ১১ দলের পক্ষ থেকে একজন প্রার্থী দেওয়া হবে। সংসদে ও সংসদের বাইরে আমাদের ১১ দলের নেতারা রয়েছেন। তাই আমাদের পক্ষ থেকে একজন দলীয় প্রধান রাষ্ট্রপতি প্রার্থী থাকবেন।’’
এনসিপির আহ্বায়ক বলেন, ‘‘১১ দলের জোটের শরিক দল এলডিপির চেয়ারম্যান কর্নেল (অব.) অলি আহমদকে রাষ্ট্রপতি পদে প্রার্থী করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।’’
তিনি বলেন, ‘‘অলি আহমদ বাংলাদেশের একজন অভিজ্ঞ রাজনীতিবিদ। তিনি রণাঙ্গনে মুক্তিযুদ্ধ করেছেন এবং বিভিন্ন সময়ে রাষ্ট্রীয় দায়িত্ব পালন করেছেন। তিনি একাধিকবার জাতীয় সংসদের সদস্য ছিলেন। আমরা মনে করি, দেশের বর্তমান সংকটের সময়ে তিনি রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করলে অভিভাবকের ভূমিকা পালন করতে পারবেন। তার নেতৃত্বে সরকারও সঠিকভাবে পরিচালিত হতে পারে বলে আমরা মনে করি।’’
অসুস্থতার কারণ দেখিয়ে গত ২৪ জুলাই মোহাম্মদ সাহাবুদ্দিন পদত্যাগ করার পর রাষ্ট্রপতির পদটি শূন্য হয়। এরপর থেকে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করছেন। সংবিধান ও রাষ্ট্রপতি নির্বাচন আইন, ১৯৯১ অনুযায়ী, পদ শূন্য হওয়ার ৯০ দিনের মধ্যে নির্বাচন আয়োজন করা বাধ্যতামূলক।
নির্বাচন কমিশন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের তারিখ ২০ আগস্ট নির্ধারণ করেছে।